আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে.এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আইন পেশা শুধু দেশে নয় সারা বিশ্বে একটা মর্যাদাপূর্ণ পেশা। বিশ্বমানের আইন শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের সুবাদে আইন শিক্ষা গতিশীল ও বহুমাত্রিক পেশাগত দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আইন শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যারা বিচারক হবেন তারা বিচারকার্যে নৈতিক হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শনিবার সকালে লর্ডস ইন মিলনায়তনে আইআইইউসি‘র আইন বিভাগ আয়োজিত বসন্তকালীন সেমিস্টার-২০১৬-এর ১৭ তম ব্যাচের নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি‘র ভাইস চ্যান্সেলর এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
আইন অনুষদের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর মোরশেদ মাহমুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, আইআইইউসি‘র ফাইনান্স কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান উল্লাহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আইন বিভাগের প্রধান সাইদুল ইসলাম, এডভোকেট ড. শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর বদিউর রহমান। স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন আইন মাস্টার্স প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর আকতারুল আলম চৌধুরী ও আঞ্জুমান আরা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে মাহমুদ উল্লাহ, মাহমুদা আকতার রীমা ও রায়হান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি’র ভিসি প্রফেসর ড. এ.কে.এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আইনজীবীদের চাকরীর অসীম সুবিধা রয়েছে। তার বিভিন্ন আন্তর্জতিক সংস্থায়ও কাজ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, একজন আইনজ্ঞকে অবশ্যই যোগাযোগ ও উপস্থাপন দক্ষতা অর্জন করতে হয়, কারণ তাকে সাক্ষী জেরা করে আদালতে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। পেশাগত সাফল্যের জন্য এই দক্ষতা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি’র ফাইনান্স কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান উল্লাহ বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগে আইন মানা জরুরী। যে আইন দিয়ে সমাজে শান্তি আসবে, সুখ আসবে সেই প্রতিষ্ঠিত করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈশিষ্ট্যগত কারণে আইআইইউসি একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীরা সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মডেল হবে।
তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যায় থেকে ৭০০ ছাত্র ডিগ্রী নিয়ে আইনজীবী হয়েছে। একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মণের জন্য যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইআইইউসি গড়ে তোলা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসি‘র আইন অনুষদের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর মোরশেদ মাহমুদ খান বলেন, আইনের শিক্ষা মানবকল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত। পারিশ্রমিক না নিয়ে একজন গরীবকে ন্যায়বিচার নিয়ে দিতে পারলে সমাজ অনেক সুন্দর হবে।
আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আইন শিক্ষাকে পরিপূর্ন করার লক্ষ্যে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম সম্প্র্রতি তাদের ল’ ডিপার্টমেন্টে চার বছরের অনার্স কোর্সের সিলেবাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আর এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সিলেবাসে প্রথমবারের অন্তর্ভূক্ত করা হলো ‘লিগ্যাল রিসার্স এন্ড থিসিস’। নতুন এই বিষয়টির ব্যাপারে ছাত্রদেরকে পর্যাপ্ত ধারণা দিতে আইআইইউসির কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসের ল ডিপার্টমেন্ট ছাত্রদের জন্য দুদিন ব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় ডিপার্টমেন্ট ভবনে এই কর্মশালার উদ্ভোদন করা হয়। উক্ত কর্মশালার উদ্ভোদনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসির কুমিরা ক্যাম্পাস প্রধান ড. মো: দেলোয়ার হোসেন। আইন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ড. বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্ভোদনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের সম্মানিত কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর মোরশেদ মাহমুদ খান ও ডিপার্টমেন্ট প্রধান মুহাম্মদ সাঈদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট রিদোয়ান গণি,
এডভোকেট নাসির উদ্দীন, এডভোকেট কলিম উল্লাহ, এডভোকেট মহউদ্দীন মহিম, এডভোকেট ফরহাদ হোসেন প্রমুখ/// খবরঃ এড্যু নিউজের
উল্লেখ্য প্রধান বিচারপতি এস.কে সিনহার প্রবল আপত্তির মুখে আইন অনুষদ Islamic Criminal Law উঠিয়ে নিতে বাধ্য হলো। তিনি একে বিতর্কিত আইন বলেছেন। তার পরিবর্তে আইন অনুষদ "Legal Research Methodology " প্রবর্তন করে। বর্তমান ১৮ তম ব্যাচ "Workshop on Legal Research Methodology" দ্বারা তার যাত্রা শুরু করে।